ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচায় এক মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা পরিচালককে অপহরণ, মারধর, টাকা ছিনতাই এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে দক্ষিণ আইচা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এই অভিযোগ করেন হাফেজ মাওলানা আবু সাঈদ আকন (২৮)। তিনি দক্ষিণ আইচা কলেজ জামে মসজিদের ইমাম এবং চরমানিকা ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তাছ্নিমুল উলুম বাবুস সালাম মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক। এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেলিন হুজুরের ছেলে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোবারক সরদারের ছেলে মো. আবু তাহের (২৮), ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জব্বারের ছেলে মো. শরীফ (২৭) এবং শশীভূষণ থানার চরকলমী করিমপুর এলাকার বাসিন্দা মঞ্জু এর ছেলে মো. রাকিব স্বর্ণকার (৩০) সন্তানের ভর্তি সংক্রান্ত কথা বলে ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ফোনে দক্ষিণ আইচা বাজারে ডেকে নেন। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে তাকে দক্ষিণ আইচা বাজারে মোবারক সরদারের বাড়ির সামনে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, সেখানে তার কাছ থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে সেই ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ইমাম আবু সাঈদ আকন বলেন, পরে তাকে একটি গাড়িতে তুলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দক্ষিণ আইচা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বড় ভাই হাফেজ মাওলানা ইয়াছিন, প্রতিবেশী রিয়াজ তালুকদার ও জহিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত মো. আবু তাহের, মো. শরীফ ও মো. রাকিব ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।